ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের (এসএনএসসি) প্রধান লারিজানি বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এবং ইসলামী দেশগুলোর সরকারগুলোর প্রতি এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর নির্লিপ্ততা এবং কিছু দেশের বিতর্কিত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি এই বার্তা প্রদান করেন।
লারিজানি বলেন, ইরান বর্তমানে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের এক প্রতারণামূলক আগ্রাসনের শিকার। আলোচনার আড়ালে ইরানকে ধ্বংস করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই আগ্রাসনে ইসলামী বিপ্লবের একজন মহান নেতা, বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডার এবং অসংখ্য বেসামরিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। তবে ইরানি জনগণ জাতীয় ও ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাতেগোনা কিছু ক্ষেত্র ছাড়া অধিকাংশ ইসলামী রাষ্ট্র এই কঠিন সময়ে ইরানের পাশে দাঁড়ায়নি। তা সত্ত্বেও ইরানি জনগণ তাদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আগ্রাসনকারীদের প্রতিহত করেছে। অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শত্রুপক্ষ এই কৌশলগত অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে লারিজানি প্রশ্ন তোলেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের আর্তনাদ শুনেও তাতে সাড়া দেয় না, সে প্রকৃত মুসলিম হতে পারে না।” তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ইরান যখন ‘বড় শয়তান’ আমেরিকা এবং ‘ছোট শয়তান’ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন কিছু ইসলামী দেশের অবস্থান এই শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি কেমন ইসলাম?
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু দেশ উল্টো ইরানকেই শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাদের যুক্তি হলো, ইরান তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা ইসরায়েলি স্বার্থে আঘাত করেছে। লারিজানি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, যদি এই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে ইরান কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান লড়াই একদিকে আমেরিকা-ইসরায়েল এবং অন্যদিকে ইরান ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে। এখন মুসলিম দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন পক্ষে দাঁড়াবে।
বার্তার শেষ অংশে লারিজানি মুসলিম দেশগুলোকে ভবিষ্যতের কথা ভাবার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমেরিকা কখনোই তাদের প্রতি অনুগত হবে না এবং ইসরায়েল সবসময়ই তাদের শত্রু। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ইরান কোনো দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না, বরং ইরান সবার প্রতি আন্তরিক। লারিজানির মতে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই কেবল এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
