গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাহি সরকার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম খান পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি তিনি গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল সিপাইয়ের সহযোগিতায় কৃষকদলের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া ও ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসী জানান, শরীফপুর খানপাড়া এলাকায় কেরাম বোর্ড খেলার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদক সেবন চলছিল। পাশেই নারীদের তারাবির নামাজ আদায়ের স্থান থাকায় নিয়মিত হট্টগোল সৃষ্টি হতো, যা ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাত। বারবার প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ঘটনার দিন পুনরায় জুয়া ও মাদক বিক্রিতে বাধা দিলে আমিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তাঁর দুই ছেলে সজিব ও প্রান্তসহ একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এলে মাহি সরকারকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। পাশাপাশি লোহার রড ও পাইপ দিয়েও তাঁকে আঘাত করা হয়।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
