যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন যে, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে মাত্র তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সেই তেল এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে শুরু করবে। ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি তেল এশীয় বন্দরগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব।
ক্রিস রাইটের মতে, এই দ্রুত সরবরাহ শুরু হলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে আনা অনেক সহজ হবে। মূলত সমুদ্রে ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল দ্রুত বাজারে আসার পথ সুগম হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন মার্কিন এই কর্মকর্তা।
এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দামে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিভিন্ন বিকল্প নীতি ও কৌশল বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন দেশটির অর্থনীতিতে যেমন গতি আসতে পারে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের তেল সরবরাহ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৈশ্বিক বাজারে প্রবাহিত হবে। এতে করে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের চড়া দামের চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
