ঝিনাইগাতীতে ফিতরার অর্থ বিতরণকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাদের দাবি, দরিদ্রদের মাঝে ফিতরার টাকা বিলি করাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই অর্থ ছিল ‘সদাকাতুল ফিতর’, যা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী অসহায়দের প্রাপ্য।
হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা বিতরণের সত্যতা পান। পরে তাদের আটক করে প্রশাসনকে জানানো হলে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে আসেন।’
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় নিয়ম হচ্ছে, ফিতরার টাকা ঈদের জামাতের আগেই পরিশোধ করতে হয়। ঈদের দিন রাতে টাকা বিতরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভোটারদের প্রভাবিত করে পক্ষে নেওয়া। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন।’
মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘ফিতরার ১১০ টাকা। কিন্তু ঈদের দিন রাতে তারা দিচ্ছেন ৩০০ টাকা। এই বিতরণ ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’
অথচ ২০২৬ সালের রমজান মাসের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত ফিতরার হার অনুযায়ী, জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। বাজারমূল্য বিবেচনা করে আটা, যব, কিসমিস, খেজুর বা পনিরের সমমূল্যে এই অর্থ প্রদান করা হয়।
জামায়াত নেতাদের দাবি, জনপ্রতি ৩০০ টাকা বা ওয়ার্ড প্রতি সামান্য কিছু টাকা বিতরণ কোনোভাবেই ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে না; বরং এটি সর্বোচ্চ সীমার (২৮০৫ টাকা) তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য এবং নিছক ধর্মীয় দায়িত্ব পালন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমানের পক্ষে স্থানীয় নেতারা জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে অসহায়দের জন্য ৫ হাজার ১০০ টাকা করে ফিতরা বরাদ্দ করা হয়েছে। ঈদের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ফিতরা দেওয়ার অবকাশ থাকায় সকালে টাকা পাওয়ামাত্রই তা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারা জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কোনো অনৈতিক পথে নয়, বরং জনগণের আস্থায় বিশ্বাসী।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ঝিনাইগাতীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, জামায়াত কর্মীরা ফিতরার টাকা দেওয়ার কথা বললেও অপর পক্ষ নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। তবে সরাসরি কোনো দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় আটক দুই কর্মীকে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রহিমের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্বাচনী অনুসন্ধান টিমে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, প্রয়াত জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া এই আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান এবং বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ফিতরার টাকা বিতরণকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
