গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষরও করা হয়েছে। তাই এটি বাস্তবায়ন করা সব রাজনৈতিক দলের জন্য জরুরি। এ থেকে সরে আসলে জাতির প্রতি নেতিবাচক বার্তা যাবে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও মাহবুব আলম সালেহী এমপি উপস্থিত ছিলেন।
সাইফুল আলম খান বলেন, দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। তাদের মতামত উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ জনগণই ক্ষমতার উৎস।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের আগে অনেক নেতাই দেশে ফিরতে পারেননি। তাই নতুন করে কোনো নেতিবাচক ইতিহাস তৈরি না করে সবার সমঝোতায় আসা প্রয়োজন।
তিনি সংসদকেই জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই কার্যকর ভূমিকা থাকা জরুরি।
এছাড়া তিনি সংসদের কার্যপ্রণালি পরিবর্তন, বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার, সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, অতীতের মতো প্রতিটি সমস্যায় রাস্তায় নামার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সংসদীয় পদ্ধতির মধ্যেই সমাধান খুঁজতে হবে।
সাইফুল আলম খান আরও বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি অনুসারে সংসদ পরিচালনা করা উচিত, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রধানমন্ত্রী বা সংসদীয় নেতা দেবেন—কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যা সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পারে।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুস্থ সংসদীয় চর্চা গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আইএফইএস প্রতিনিধি দল বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন ও সুপারিশ দেবে বলেও তিনি জানান।
