জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি অভিযোগ করেছেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরাসরি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সঙ্গে জড়িত ছিল। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জয়পুরহাটে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ধরন এবং উপদেষ্টাদের ভূমিকা থেকে এটি দেশের মানুষের কাছে আজ পরিষ্কার।
রফিকুল ইসলাম খান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অনেক উপদেষ্টাই প্রথম দিন থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত ছিলেন। বিশেষ করে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের ভেতর থেকেই জামায়াতকে মূলধারার ক্ষমতায় আসতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উপদেষ্টাদের এমন ভূমিকার প্রতি তিনি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছে। অথচ এখন সরকার বলছে গণভোট বলে কিছু নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরাও একসময় এই গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। তাই জনরায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই এবং সরকারকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।
জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের আমির ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। রফিকুল ইসলাম খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে সরকার জনদাবি প্রথমে মানতে চায় না, তারা শেষ পর্যন্ত তা মানতে বাধ্য হয়। অনুষ্ঠান শেষে জেলার ৩২টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৫টিতে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়।
