নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বালেনের বিরুদ্ধে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেন–জি অ্যাকটিভিস্টদের প্রবল প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে গত রোববার তাঁকে মুক্তি দেয় নেপাল পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক রোশন পোখরেল ‘হেইডেস’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলের পরিচালক। গত বৃহস্পতিবার পূর্ব নেপালের পাঁচথর জেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। চার দিন পুলিশি হেফাজতে থাকার পর ব্যক্তিগত জিম্মায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পুলিশের শর্ত অনুযায়ী, তদন্তের প্রয়োজনে যখনই ডাকা হবে, তখনই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।
রোশন পোখরেলের গ্রেপ্তারের পরপরই নেপালের জেন–জি প্রজন্মের অ্যাকটিভিস্টরা তীব্র আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মুখপাত্র বিজয় শাহ ও তনুজা পান্ডে এক বিবৃতিতে জানান, স্রেফ মত প্রকাশের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা বাক্স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাঁরা সরকারকে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের বদলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান।
নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বালেন নিজেও রাজনীতিতে আসার আগে একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও র্যাপার ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ব্যবস্থার অসংগতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েই তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে আইকন হয়ে ওঠেন। গত মার্চে তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) প্রথাগত দলগুলোকে পরাজিত করে সরকার গঠন করে।
জেন–জি প্রজন্মের আন্দোলনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসা বালেন শাহের সরকারের এমন পদক্ষেপে খোদ তাঁর সমর্থক গোষ্ঠীই নাখোশ ছিল। মূলত দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা নেতার আমলেই বাক্স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।







