মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রিয়াদ সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সৌদি আরবের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ফোনালাপে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার টেবিলে মার্কিন পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য আবদারের কারণে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থার অভাবই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে দাবি করেন আরাঘচি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক কমান্ডারের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটও আলোচনায় উঠে আসে। ইরান দাবি করেছে, এই লড়াইয়ে তারা সফলভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। বর্তমানে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি।
শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা শান্তি চায় তবে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়।
আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে যে, সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশের মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই গভীর সংকট দূর করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারে কি না।







