মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছে সরকার। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও পরিশোধিত জ্বালানি এনে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।
সরকার জানায়, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সীমিত সক্ষমতায় চালু রেখে সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
তবে বাস্তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছেন। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মজুত তেল উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় মার্চ ও এপ্রিলে নির্ধারিত পরিমাণ ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছায়নি। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারিকে সীমিত সক্ষমতায় পরিচালনা করতে হচ্ছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায়—
১,০১,৩৮৫ টন ডিজেল
৩১,৮২১ টন অকটেন
১৮,২১১ টন পেট্রোল
৭৭,৫৪৬ টন ফার্নেস ওয়েল
১৮,২২৩ টন জেট ফুয়েল
মজুত রয়েছে, যা প্রায় দুই মাসের চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।
সরকার আরও জানায়, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সুপারিশ তৈরির জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গ্রাহকদের ৪–৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ভিড়ের প্রধান কারণ ‘প্যানিক বায়িং’। সরকার আশ্বস্ত করেছে, তেলের কোনো সংকট নেই এবং অতিরিক্ত মজুতের প্রয়োজন নেই।






