দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে সর্বশেষ প্রতিবেদনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামে মোট ৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৭৮ শিশু, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।
সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুটি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে এবং বাকি দুটি বরিশাল বিভাগে। একই সময়ে সর্বোচ্চ ৮১ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগেই, যা রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় সংক্রমণের বিস্তারকে স্পষ্ট করে।
এদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ শিশু। গত এক দিনে সারা দেশে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের মধ্যে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৯৪২ জনের শরীরে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই রয়েছে ৫৮০ জন, আর রাজশাহী বিভাগে ২০৮ জন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সংখ্যাতেও ঢাকা বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। ভর্তি হওয়া ৬২৪ জনের মধ্যে ৩৩০ জনই ঢাকা বিভাগের। অন্যদিকে সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচজন এবং রংপুর বিভাগে মাত্র তিনজন।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৫০৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৫২ জন, চট্টগ্রামে ৬৪ জন এবং রাজশাহীতে ৫১ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
গত ৩৫ দিনের সার্বিক চিত্র আরও বড় পরিসরের সংকেত দেয়। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ২২ হাজার ৪০৯ জন। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৫২২ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৭৮ জনের মধ্যে। আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১ হাজার ৭৫১ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত টিকাদান জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি।







