বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার বা বিতর্কিত করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে যারা ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের এই দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। এই অভ্যুত্থানে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ সেক্টরে লাগামহীন দুর্নীতি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের খসড়া গণভবনের বারান্দায় লেখা হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও হয়তো একই প্রক্রিয়ায় করিডোরে রায় লেখা হয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরিতে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বন্দনা বাধ্যতামূলক করারও সমালোচনা করেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংযোগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আমরা যদি তরুণদের কাছে বিগত বছরগুলোর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারতাম, তবে তারা উপলব্ধি করতে পারত গত ১৭ বছরে কত ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার যে চরমভাবে খর্ব করা হয়েছিল, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দিতেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভয়ে শঙ্কিত থাকত।
ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের তোষামোদির রাজনীতির কড়া সমালোচনা করে পার্থ বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার কেন্দ্রে নতি স্বীকার করেছিলেন। বর্তমান সংসদের বিরোধী দলের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা অত্যন্ত সুন্দর ও যৌক্তিক কথা বলেন, যা অনেক সময় সরকারি দলের সদস্যদেরও আকৃষ্ট করে। তিনি সবাইকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।







