চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কাল্পনিক খবর প্রচার করা হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে শহর পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন যে, বর্তমানে চট্টগ্রামে আগের মতো জলাবদ্ধতা নেই। খবরের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করায় মানুষ আনন্দিত ও প্রধানমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, শহরের ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খালের কাজ ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় সিডিএ ও সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ৩০টি খালের কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৬টির কাজ চলমান রয়েছে। চলমান কাজের জন্য কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় এবং হঠাৎ ২২০ মিলিমিটার অতিবৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সেই জলজট ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় নিরসন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চলমান প্রকল্পের বাঁধগুলো আগামী ৫ দিনের মধ্যে অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে কোনো ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি এবং ড্রেনেজ পরিষ্কার রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
