ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এবং ডাকসুতে তাঁর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সফলতার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ তাঁকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি জনগণ চায় তবেই তিনি মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্বাচিত হলে ঢাকাকে একটি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত সাদিক কায়েম জানান, তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। শৈশব ও কৈশোর পাহাড়ঘেরা খাগড়াছড়িতে কাটানোর ফলে বিভিন্ন ধর্ম ও নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রতিকূল পরিবেশে নেতৃত্ব দিতে এবং সংকটকালে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে শিখিয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি আওয়ামী শাসন আমলের বিভিন্ন বিচারিক হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের গণহত্যার প্রতিবাদে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি চারণ করে এই ছাত্রনেতা বলেন, তিনি নিজেকে নয় বরং শহীদ ও গাজীদেরই এই আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড মনে করেন। আন্দোলনের কঠিন সময়ে, বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় নয় দফা দাবি প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ছাব্বিশে জুলাই যখন অন্য সমন্বয়কদের ডিবি পুলিশ ঘিরে ফেলেছিল, তখন তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন।
ডাকসু ভিপি হিসেবে গত চার মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর নেতৃত্বে ১০৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য সন্ধ্যাকালীন বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, কেন্দ্রীয় মসজিদের আধুনিকায়ন এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার মতো ২শ’র বেশি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বাজেট সীমাবদ্ধতা অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি মন্থর করে দিচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনা পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করতে পারছে না। একইসাথে অনেক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সংস্কার কার্যক্রমে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি একে শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন। সাদিক কায়েমের মতে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি, যাতে আগামীর নেতৃত্ব তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠে।
