সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংসদীয় দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি বলেন, সরকার বা বিরোধী দল—যেকোনো এক পক্ষ ব্যর্থ হলে পুরো সংসদ এবং পরিশেষে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি উভয় পক্ষকে একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় মাসে সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখা হয়েছে। অতীত রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব ও দীর্ঘস্থায়ী হরতালের কুফল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশ আর কোনো ব্যর্থতা দেখতে চায় না।
চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশের মানুষ কিছুটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দল মিলে এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে মানুষের স্বস্তি ফেরাতে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি ও শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধান চাষী থেকে শুরু করে মৎস্য ও পশুপালনকারী—সব ধরনের কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ও জুতা প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি বাংলাদেশের স্কুলগুলোকে বিশ্বমানের করার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই কার্ডে বিনিয়োগ মূলত দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি বড় মাধ্যম। তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের সূত্র ধরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনপ্রিয় সস্তা সিদ্ধান্তের চেয়ে দেশের জন্য সঠিক ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদ ও নির্যাতিতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই বাংলাদেশে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।







