ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের শ্রমিকরা সব আমলেই বঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়ে আসছেন। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। এ লক্ষ্যে সকল শ্রেণির মতো শ্রমিকদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কার্ড প্রদান করতে হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের উন্নত চিকিৎসা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার (১ মে) সকালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বিগত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থ রক্ষায় তাঁরা কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতা করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক রাজনৈতিক দল যখন ইসলামকে উপেক্ষা করে গোপন আঁতাতে লিপ্ত ছিল, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অত্যন্ত স্বচ্ছ ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করেছে। তাঁদের কোনো গুপ্ত রাজনীতি নেই বরং সব কার্যক্রমই জনগণের সামনে প্রকাশ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সংসদে আবারও পুরোনো ‘মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার’ বিতর্ক সামনে আনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকর। বিরোধী দলগুলোর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাদের পরিষ্কার করতে হবে তারা ইসলামি শরিয়াহর পক্ষে নাকি প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পক্ষে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যে সরাসরি শরিয়াহর পক্ষে কাজ করছে, সে বিষয়টি তিনি আবারও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে কওমি মাদরাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে নতুন করে ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে তা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।







