পেন্টাগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। আরাগচির মতে, এই অঙ্ক পেন্টাগনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক হিসাবের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি।
আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের জন্য এই যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিটি পরিবারকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাসে গড়ে ৫০০ ডলার করে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে, যা দ্রুত বাড়ছে। তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ওয়াশিংটন মূলত নিজের দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে বিসর্জন দিচ্ছে।
খোদ মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেও পেন্টাগনের দেওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন কেবল সরাসরি অভিযানের খরচ দেখাচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যোগ করলে এই অঙ্ক ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একাডেমিক বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুদ্ধের মোট ব্যয় শেষ পর্যন্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। তিনি জানান, যুদ্ধের ৪০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয় হয়েছে।
অধ্যাপক বিলমেস আরও উল্লেখ করেন, পেন্টাগন তাদের সম্পদের হিসাব করছে পুরনো মূল্যে, অথচ বর্তমান বাজারে সেগুলো প্রতিস্থাপন করতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হবে। এ ছাড়া যুদ্ধে নিয়োজিত প্রায় ৫৫ হাজার সেনার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবা ও পঙ্গুত্ব ভাতার বিশাল বোঝা ভবিষ্যতে মার্কিন অর্থনীতির ওপর এক বড় ধরনের স্থায়ী চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।







