বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের নবঘোষিত ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত এক ডজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এই কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্যাগী নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একে অনেকেই ছাত্রদলের ভেতর ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, কমিটির অন্তত ১৩ জন সদস্য ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাঁদের বিগত দিনের ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি, মিছিল ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ৪ নম্বর সহসভাপতি মিঞা বাবুল, ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন এবং ১১ ও ১২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন ও মো. ইমরানসহ আরও বেশ কয়েকজন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত এই কমিটির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কমিটিতে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি, যা সাংগঠনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যাদের অবদান ছিল, তাদের বিতর্ক না থাকলে কমিটিতে রাখা হয়েছে। তবে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করা এবং জুনিয়রদের সিনিয়র পদে বসানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা একে জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।
