রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। পাশাপাশি, শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকার অভিযোগ তুলে সিপিবি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে শাপলা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত “সাদা পাঞ্জাবির মিছিল”-এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
বক্তব্যে নাঈম আহমাদ বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর চালানো অভিযানে নিহতদের ঘটনা এবং সে সময়কার ব্লগার হত্যাকাণ্ড—উভয় ক্ষেত্রেই জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পেছনে বামপন্থী কিছু সংগঠনের ভূমিকা ছিল এবং এ কারণে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে শাহবাগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছিল, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী তৎকালীন সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যু যুক্ত থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে এটি ইসলামবিদ্বেষী ও ফ্যাসিবাদপন্থী আন্দোলনে রূপ নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাঈম আহমাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মানুষ শাপলা চত্বরে সমবেত হন, কিন্তু সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে তা দমন করে। তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।
গণজাগরণ মঞ্চের তৎকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি “গুপ্ত ছাত্রলীগ” হিসেবে কাজ করতেন—এমন মন্তব্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন করেছিলেন বলেও দাবি করেন। তার অভিযোগ, বামপন্থী কয়েকটি সংগঠনসহ তৎকালীন সরকারের মিত্ররা এ ধারার রাজনীতিতে সহযোগিতা করেছিল, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকে থাকে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শাপলার ধারাবাহিকতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ব্লগার হত্যাকাণ্ডের কিছু মামলার বিচার সম্পন্ন হলেও শাপলা চত্বরের ঘটনায় অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে কম। “ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড থাকা উচিত নয়,”—মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ব্লগার হত্যার ঘটনাগুলো পুনঃতদন্তের প্রয়োজন আছে বলেও উল্লেখ করেন, যাতে নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে জাগ্রত জুলাইয়ের সদস্য সচিব মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে জুলাইপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকায় শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচি থেকে সব ধরনের গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, শাপলা চত্বরে নিহতদের সরকারি তালিকা প্রকাশ, জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ এবং ধর্মবিদ্বেষী কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে জেডিপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রমঞ্চের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন।







