ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বাংলাবাজার কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. মাসুদ বলেন, ভবিষ্যতে আপনাদের পরামর্শ নিয়েই বাউফলের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চান তিনি। টানা সংসদ অধিবেশনের কারণে সম্প্রতি দুটি বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারায় দুঃখও প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ। “আমরা যা বলি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি,”—যোগ করেন তিনি।
মাদক প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে—রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে থানার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা গেছে। তার মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও সম্ভব হবে।
মাদককে ‘ক্যান্সারের মতো মহামারি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় এর বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া গেছে। আগে যেখানে অভিযানের আগেই তদবির শুরু হয়ে যেত, এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চুরি প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক নির্মূলের পাশাপাশি চুরি দমনে জোর দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চোরদের আটক করা হচ্ছে এবং এখন সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও চুরি দমনে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে, যা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. মাসুদ বলেন, পৃথিবীতে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে কোনো অপরাধকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি জেলখানায় দেখা অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ অভ্যাসে পরিণত হয় এবং পারিবারিকভাবেও গড়ে ওঠে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। “আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে ছিলাম, আছি এবং থাকব,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তার কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। দেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবেই নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হিন্দু নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে চান এবং প্রয়োজনে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তোষামোদ নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনাই উন্নতির পথ দেখায়।
