তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মানববিহীন যুদ্ধবিমান বিক্রির আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়কার ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তাদের অত্যাধুনিক ‘কিজিলএলমা’ (KIZILELMA) যুদ্ধবিমান রপ্তানির জন্য এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ (SAHA 2026) আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়।
প্রাথমিক এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়াকে সর্বোচ্চ ৪৮টি কিজিলএলমা যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২২ সালে প্রথম উড্ডয়ন করা এই যুদ্ধবিমানটি গত কয়েক বছরে অসংখ্য সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সফল ট্রায়াল শেষে গত বছর থেকেই এটি সিরিয়াল উৎপাদনের কাজ শুরু করে তুরস্ক।
কিজিলএলমা সাধারণ ড্রোনের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি স্টেলথ বা রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন এবং উচ্চগতিসম্পন্ন একটি আকাশযান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এই বিমানটি ভবিষ্যতে মানবচালিত যুদ্ধবিমানের বিকল্প বা অত্যন্ত কার্যকর সহায়ক হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বায়কারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যেই কিজিলএলমা মানববিহীন যুদ্ধবিমানকে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় বহরে যুক্ত করা হবে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি তুরস্কের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির সক্ষমতাকে বৈশ্বিক বাজারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তুরস্কের কৌশলগত প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
