প্রতিবেশীরা যখন বুলেট ট্রেন চালুর পথে, তখন বাংলাদেশ রেলওয়ে ডুবে আছে সীমাহীন দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায়। গত ১৫ বছরে রেল খাতে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো লোকসানের বোঝা টানছে। বর্তমানে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, রেলওয়ের ১০০ টাকা আয় করতে ব্যয় করতে হচ্ছে ২৫০ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই খাতে ২৮০ টাকার একটি পাইপ রেঞ্জ কেনা হয়েছে ৮,৪৭৫ টাকায়।
রেলওয়ের এই দুরাবস্থার পেছনে একটি প্রভাবশালী বাস মালিক ও সড়ক সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই লবিস্ট গ্রুপটি কখনোই চায় না রেলের আধুনিকায়ন হোক, কারণ রেল উন্নত হলে তাদের বাস ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে পরিকল্পিতভাবে রেলের ইঞ্জিন ও লোকবল সংকট জিইয়ে রাখা হচ্ছে। ১৯ হাজার টাকার পণ্য ৩ লাখ টাকায় কেনা বা ৩৮ কোটি টাকার অকেজো ওয়াশিং প্ল্যান্টের মতো অদ্ভুত কেনাকাটা এখন রেলের নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র।
প্রকল্পের নামে লুটপাটের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের বাজেটে। শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় ১,৮০০ কোটি টাকা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাড়িয়ে ১৮,০০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের একটি বড় অংশই দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ এত বিনিয়োগের পরও সাধারণ মানুষ উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পরিবহন সংকটের কারণে সাধারণ জনগণ সরাসরি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এক টন পণ্য ট্রাকে আনতে যেখানে ১৯৫০ টাকা খরচ হয়, সেখানে রেলে খরচ মাত্র ৬২৫ টাকা। কিন্তু ইঞ্জিন ও ওয়াগনের কৃত্রিম সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা রেলে পণ্য পাঠাতে পারছেন না। এই বাড়তি পরিবহন খরচের প্রভাবেই বাজারে আলু, পেঁয়াজ ও সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
রেলকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সড়কপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ট্রান্সপোর্ট মাফিয়াদের কবজা থেকে রেলকে মুক্ত করতে না পারলে এই লোকসান ও জনভোগান্তি আরও বাড়বে। সাধারণ যাত্রী হিসেবে ট্রেনের টিকিট পাওয়া থেকে শুরু করে যাতায়াত পর্যন্ত প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।







