বঙ্গোপসাগরের আকাশে রহস্যময় আলোক রেখা দেখা দেওয়ার পর ভারত তাদের শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষা চালিয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ভারত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ আকাশসীমায় জারি করা ‘নোটাম’ বা বিধিনিষেধ এবং আকাশে দীর্ঘ আলোর রেখা দেখে বিশেষজ্ঞরা এমনটিই ধারণা করছেন।
এর আগে ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে আকাশসীমায় ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করে ভারত। ওড়িশার এই দ্বীপটি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল পরীক্ষার মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবেই আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার আকাশে হঠাৎ এক দীর্ঘ আলোক রেখা দৃশ্যমান হয়। সৈকতে অবস্থানরত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এই রহস্যময় দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এটি দেখতে অনেকটা আকাশপথে তীব্র গতিতে ছুটে চলা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ছিল, যা সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনার জন্ম দেয়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এই দৃশ্যটি কোনো আবহাওয়াজনিত বিষয় নয়। সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ভারতের জলসীমায় ঘটেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি কোনো দূরপাল্লার মিসাইল পরীক্ষা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের দিনেই ভারতের এই মিসাইল টেস্ট কৌশলগত দিক থেকেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ধারণা করা হচ্ছে, এই পরীক্ষাটি গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে পরিচালনা করা হয়ে থাকতে পারে। ভারত যদি সত্যিই ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল সফলভাবে পরীক্ষা করে থাকে, তবে এটি দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বিবৃতির জন্য অপেক্ষা করছেন আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞরা।
