মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে নতুন একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে তারা দ্রুত ইরান-এর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছে। তবে তেহরান বলছে, প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো ধরনের মার্কিন আল্টিমেটাম তারা মেনে নেবে না।
সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার মার্কিন বাহিনীর হামলায় দুটি ইরানি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেয়। তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।
পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ইরানের কাছে একটি কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, যা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
এদিকে শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি কারিগরি ও জটিল হওয়ায় তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
