ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শাহবাগ মোড় হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় দলটির নেতাকর্মীরা সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে এবং ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে জেডিপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেন, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলতে পারে না। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে বিএসএফ বারবার বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যার সাহস পাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জেডিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নুরা জেরিন সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, দুই নাগরিকের মৃত্যুর পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাঁর মতে, সরকার আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে যতটা সোচ্চার, নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে ততটাই উদাসীন। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারকে অবিলম্বে নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এইচএসসি শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন এবং নবীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। সমাবেশে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চ-এর নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সীমান্ত হত্যা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান।
