কুষ্টিয়ার মিরপুরে গ্রেপ্তার এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন। পুলিশের দাবি, তাঁরা মাদক কারবারির পক্ষে তদবির ও চাপ সৃষ্টি করায় তাঁদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই পাঁচজন থানায় ছিলেন। অন্যদিকে ইয়াবাসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা এনামুল হক। বাকি চারজন হলেন উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম, সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম। পুলিশ তাঁদের স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নওদা আজমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। এলাকাবাসীর কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিউলকে থানায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বিএনপি নেতা এনামুল হক ও চার জামায়াত-সমর্থক থানায় উপস্থিত হন। তাঁরা আটক রবিউলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ওসির সঙ্গে তাঁদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ আটক এক চিহ্নিত কারবারিকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁরা থানায় এসে বারবার তদবির ও চাপ সৃষ্টি করেন। এ কারণে তাঁদেরও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুরো রাত তাঁদের থানায় রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মহিউদ্দিন বলেন, আটক চারজন জামায়াতের কোনো কমিটিতে নেই। তবে তাঁরা দলের সমর্থক এবং নির্বাচনের সময় প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
