যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১৫ মে) বাদ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এদিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে দলটি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। একইসঙ্গে তিনি ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কান্ট্রি অফিস স্থাপনের চুক্তি বাতিলসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত মানতে হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে মাত্র ৬টি শর্ত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক নয়; বরং দেশের স্বার্থবিরোধী ও ‘গোলামির চুক্তি’। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে গোপনে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, এলএনজি, কৃষিপণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জমিয়ত মহাসচিব বলেন, তাদের দল সংবিধান ও জুলাই সনদ—দুটোকেই রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কোনো একটিকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যটিকে উপেক্ষা করার অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন না। তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণাঙ্গ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান। অন্যথায় তা জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে মুসলমানদের বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদ্রাসায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করে দলটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত সব চুক্তি প্রকাশ ও বিতর্কিত চুক্তি বাতিল, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, জুলাই হত্যা, পিলখানা ও শাপলা ট্র্যাজেডির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে সুযোগ বৃদ্ধি।
এ ছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও চামড়াশিল্প রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। এ সময় দলের সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
