সিনিয়র সাংবাদিক তুষার আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদসূত্র অনুযায়ী, রাজধানীর পূর্বাচলে তাঁর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল বাড়ির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করে তিনি বিপুল সম্পদ গড়েছেন।
বর্তমানে ‘এখন টিভি’র এডিটরিয়াল হেড ও পরিচালক হিসেবে কর্মরত তুষার আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের চারজন সিনিয়র সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের পক্ষে সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ (ডিইউজে) বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তুষার আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি গণহত্যা ও সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত জুলাই গণহত্যার মামলার আসামিদের তালিকায় তাঁর নাম থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল সময় টিভিতে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের হাত শক্ত করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এদিকে, পূর্বাচলে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িটি নির্মাণের খরচ নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজারদরে পূর্বাচলের মতো জায়গায় এমন আলিশান বাড়ি নির্মাণে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন। একজন সাংবাদিকের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এবং অনেকে এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই দুর্বৃত্তায়নের বিচার নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
