২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত চার দিনের সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধে পাকিস্তান অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছেন এবং চীনের সঙ্গে ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ভারত ও পাকিস্তানের এই সংঘাতের মূলে ছিল কাশ্মীরের পেহেলগাম অঞ্চলে একটি সশস্ত্র হামলা, যার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এর জেরে ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়, যার নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’ পরিচালনা করে এবং আকাশযুদ্ধে চীনের সহায়তায় নির্মিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের একাধিক অত্যাধুনিক ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
এই যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভারতের পানিনীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিলে পাকিস্তান একে যুদ্ধের শামিল বলে অভিহিত করে। ভারতের এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত শুধু পাকিস্তানের অস্তিত্বের সংকট নয়, বরং বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর জন্যও এক বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রত্যাহারের এই প্রবণতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সংক্ষিপ্ত এই যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হওয়ায় পাকিস্তান একে বড় ধরনের সামরিক বিজয় হিসেবে উদ্যাপন করছে। অন্যদিকে, ভারত দিনটিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দিবস হিসেবে পালন করলেও আকাশযুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে তাদের সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীর সমস্যার সমাধান এবং সিন্ধু পানি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব।
