পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনেই দেখা গেল ভিন্নধর্মী এক রাজনৈতিক দৃশ্য। মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মিষ্টির প্যাকেট হাতে বিধানসভায় প্রবেশ করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। সেই মিষ্টি তিনি নিয়ে এসেছিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য। শপথ গ্রহণের দিনেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক এই নেতা আগের সরকারের বিরুদ্ধে কড়া রাজনৈতিক বক্তব্যও দেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বুধবার তিনি নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। বিধানসভায় প্রবেশের আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেবেন, যাতে সেখানে দ্রুত উপনির্বাচন আয়োজন করা যায়।
তবে এদিন তার রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল হাতে থাকা মিষ্টির বাক্স। মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী মনোহরাসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতেই এই আয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রতীকী সৌজন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, নতুন দল গঠন করে দুটি আসনে জয় পাওয়া তার জন্য বিশেষ আনন্দের। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এজন্য তিনি সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান।
তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কও শুরু হয়েছে। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিত মুখ ছিলেন হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ ইস্যুতে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে মুর্শিদাবাদে নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলেন। এবারের নির্বাচনে সেই দলের হয়ে দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়ে তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিন বিধানসভায় একে একে শপথ নেন নবনির্বাচিত বিধায়কেরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অধিবেশনটি পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই উপস্থিতি কেবল একজন বিধায়কের শপথ গ্রহণে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সম্পর্ক, নতুন বার্তা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত।
