ভোলার লালমোহনে লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইব্রাহিম মিয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল, পাকা ধান কেটে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নিজস্ব ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও আধিপত্য বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী চার নারী—নুর নাহার বেগম, পারুল বেগম, পারভীন বেগম ও ফাতেমা বেগমের দাবি, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ইব্রাহিম মিয়া তার দলবল নিয়ে তাঁদের পৈতৃক ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ৫১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করেন। এ সময় জমির পাকা ধানও কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের কাছে দলিলের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও ইব্রাহিম মিয়া ক্ষমতার দাপটে তাঁদের জমি থেকে উচ্ছেদ করেছেন এবং বর্তমানে মালিকানা ত্যাগের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পারুল ও পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিলেও ইব্রাহিম মিয়ার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও অভিযুক্ত নেতা জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উল্টো তিনি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে আইনি কার্যক্রম ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
অভিযুক্ত ইব্রাহিম মিয়া এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, জমিটি আগে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রাখা হয়েছিল। লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল জানিয়েছেন, সত্যতা নিশ্চিত হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।







