ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে তুরস্ক ও কাতারও যুক্ত হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা বর্তমানে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে রূপ নিতে পারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাতে পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, কাতার ও তুরস্ক যদি এই চুক্তিতে যোগ দেয়, তবে সেটি হবে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সমমনা দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল—জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানেই তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি ইরানের পাল্টা হামলার পর থেকে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে।
তুরস্ক ও কাতারকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এক ছাতার নিচে আসবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান একদিকে যেমন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয়কেও আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
