চীনের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি অভাবনীয় গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ব্লুমবার্গের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেশটির প্রধান দুটি রাষ্ট্রীয় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে সরঞ্জাম সরবরাহকারী ৮১টি কোম্পানির ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ শতাংশই রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে। চীনের অন্যান্য খাতের অর্থনীতিতে স্থবিরতা থাকলেও সমরাস্ত্র সরঞ্জাম বিক্রির পরিমাণ ২০ শতাংশ বেড়ে ২৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে চীনের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে বেইজিংয়ের হাতে ৩,১৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ১৪৭ শতাংশ বেশি। চীনের এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুয়াম থেকে শুরু করে টোকিও পর্যন্ত যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির এই মহোৎসব চললেও চীনের এই অগ্রযাত্রায় কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেটে কিছুটা ধীরগতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপদস্থ জেনারেল ও বিজ্ঞানীদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সমরাস্ত্র সংগ্রহের এই দ্রুত গতিকে ভবিষ্যতে কিছুটা মন্থর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীন তাদের আকাশপথের প্রতিরক্ষা এবং দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সমরাস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর আয়ের এই উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে, বেইজিং তাদের সামরিক আধুনিকায়নের লক্ষ্যমাত্রায় অবিচল রয়েছে।
