কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। প্রতি বছরের মতো এবারও অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সক্রিয় হয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগ উঠেছে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কৃত্রিম সংকট ও সমন্বিত কারসাজির মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রোজা, ঈদ কিংবা যেকোনো ধর্মীয় উৎসব এলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতিমুনাফা অর্জনে তৎপর হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে হলে বাজারে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পোলাওর চাল কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যদিও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গরুর মাংস কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।
একইভাবে ভোজ্যতেল, দুধ, চিনি, সেমাই, কিশমিশ ও বিভিন্ন মসলার দামও বেড়েছে।
রাজধানীর জিনজিরা বাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে মানভেদে পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে, যা দুই মাস আগে ছিল প্রায় ১৩০ টাকা। মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা পর্যন্ত। চিনির দাম কেজিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা। আলুবোখারার দাম ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০০ টাকা কেজি। এলাচ ও লবঙ্গের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
মাংসের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৭৩০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কয়েকদিন আগেও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৮৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা ভোক্তারা বলছেন, বছরজুড়েই কোনো না কোনো অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। তবে ধর্মীয় উৎসব সামনে এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কার্যকর উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়।
বাজারে গুঁড়োদুধ, সেমাই, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও হলুদের দামও বেড়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে ৮৬০ থেকে ৯২০ টাকার মধ্যে। প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাইয়ের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। আমদানি করা রসুন ২২০ টাকা এবং আদা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজিতে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল জানিয়েছেন, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অনিয়ম পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
