চীনের বিমানবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে দেশটির সবচেয়ে উন্নত পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট জে-২০ (J-20) বা ‘মাইটি ড্রাগন’ উৎপাদনে এক অভাবনীয় রোবটিক বিপ্লব ঘটেছে। যুদ্ধবিমানটির উৎপাদন গতি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াতে চেংডুর একটি প্রধান বিমান উৎপাদন কারখানাকে পুরোপুরি ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কারখানায় রূপান্তর করেছে দেশটির এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই অত্যাধুনিক কারখানায় ভারী যন্ত্রাংশ উৎপাদন বা জোড়া দেওয়ার জন্য কোনো আলো কিংবা মানুষের প্রত্যক্ষ উপস্থিতির প্রয়োজন হয় না। স্বয়ংক্রিয় এআই চালিত মেশিন ও রোবটগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে যুদ্ধবিমানের জটিল সব কাঠামোগত যন্ত্রাংশ ও কঙ্কাল নিখুঁতভাবে তৈরি করছে। কেবল বিমানের একেবারে চূড়ান্ত সংযোজন বা ফাইনাল এসেম্বলির সময় দক্ষ মানব প্রকৌশলীদের হাত লাগাতে হয়।
এই সমন্বিত রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কারখানার উৎপাদন কার্যক্ষমতা যেমন প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে, তেমনি অপারেটরদের শারীরিক শ্রমের তীব্রতা প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ফলে মানুষের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাওয়ায় যুদ্ধবিমানটির সামগ্রিক উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেকখানি কমে এসেছে।
রোবটিক প্রযুক্তির এই অভাবনীয় জোয়ারের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যুদ্ধবিমান এফ-২২ র্যাপ্টরের (F-22 Raptor) বিপরীতে চীন এখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিজেদের আকাশসীমা প্রতিরক্ষার এই অগ্রবর্তী বহর বড় করার বড় ধরনের সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের বিমানবাহিনীতে জে-২০ স্টিলথ ফাইটারের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছাতে পারে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।







