চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল কর্মকর্তা নরেন ধরের (৩৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই কূটনৈতিক কর্মকর্তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে নগরীর জাকির হোসেন রোড সংলগ্ন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ও এর আশপাশের কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক রেওয়াজ অনুযায়ী সহকারী হাইকমিশন ও দূতাবাসের প্রটোকল কর্মকর্তারা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বিদেশি প্রতিনিধি দলের সাথে সমন্বয়, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) যাতায়াত ও নিরাপত্তা দেখভাল এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক যোগাযোগের মতো মূল কাজগুলো এই প্রটোকল কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই সুসম্পন্ন হয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের কিছু কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক দায়িত্বের আড়ালে ভিন্নধর্মী গোয়েন্দা তৎপরতা বা বিশেষ তথ্য সংগ্রহের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনের প্রটোকল, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরণের অভিযোগ বেশি উঠতে দেখা যায়। তবে সংবেদনশীল ও কৌশলগত কারণে এসব জটিল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশ্যে কখনো কিছু স্বীকার বা মন্তব্য করে না।
ভারতের এই তরুণ কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও নরেন ধরের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো রহস্যজনক বা গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার তথ্য এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন কিংবা ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা স্পষ্ট জানা যাবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
