রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিসহ দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর, দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৮ বছর আগের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর নাম। সাভারের ওই খুনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরই মানুষের মনে রসু খাঁর রোমহর্ষক অপরাধের স্মৃতি ফিরে আসে। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে রসু খাঁ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একে একে ১১ জন নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
কুখ্যাত এই খুনিকে ২০০৯ সালে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে যোনিপথে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া এবং স্তন কেটে ফেলার মতো বর্বর নির্যাতনের তথ্য সামনে আসে। রসু খাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানো, তবে ১১টি খুনের পরই তিনি ধরা পড়েন। এরপর চাঁদপুরে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যার দায়ে আদালত রসু খাঁর ফাঁসির আদেশ দেন এবং হাইকোর্টও সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পার হয়ে গেলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত রসু খাঁর সেই ফাঁসির আদেশ এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে রসু খাঁ গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির সেলে বন্দি আছেন। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন এবং কারাগারের সাধারণ রান্নাকরা খাবার খেয়েই দিন পার করছেন। ফাঁসির চূড়ান্ত আদেশ কার্যকর না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে কারাগারে রসু খাঁর মতো অপরাধীদের পেছনে রাষ্ট্রের তথা জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আইনি জটিলতার কারণে রসু খাঁ ও তাঁর সহযোগীদের সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়াটি এখনো ঝুলে আছে। চাঁদপুরের আদালত ২০১৮ সালে রসু খাঁসহ তাঁর ভাগনে জহিরুল ইসলাম ও সহযোগী ইউনুছকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও, দুই বছর আগে হাইকোর্ট রসু খাঁর সাজা বহাল রেখে বাকি দুজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করে। বর্তমানে এই মামলার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের আবেদন বা ‘লিভ টু আপিল’ করা হয়েছে, যার কারণে কারাগার কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সাজার আদেশ কার্যকর করার জন্য উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।







