পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পাঞ্জাব পুলিশ। তিনি পাঞ্জাবের পাঠানকোট জেলার চাক ধারিওয়াল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ উঠেছে, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলের ভিডিও ফুটেজ পাকিস্তানে পাঠাতেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঠানকোট-জম্মু মহাসড়কের একটি সেতুর পাশে ইন্টারনেটসংযুক্ত একটি নজরদারি ক্যামেরা বসান বিট্টু। সেই ক্যামেরা দিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়িবহর ও নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিট্টু স্বীকার করেছেন যে, দুবাই থেকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী এই কাজ করার জন্য তাকে প্রায় ৩৫ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের কাছ থেকে একটি নজরদারি ক্যামেরা ও ওয়াইফাই রাউটার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও তিনজনের নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সীমান্তপারের গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাঠানকোট এলাকাটি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল, যার কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও এই তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে পাকিস্তান-সংযোগের অভিযোগে একের পর এক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা সামনে আসছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই কলকাতায় পাকিস্তানঘনিষ্ঠ একটি গুপ্তচরচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল, যার বিরুদ্ধেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ ছিল।
