পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই সম্পন্ন হবে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এদিন বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কো সফর নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) এবং অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (আকসা) নিয়ে আলোচনা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; এতে সামরিক বাহিনীসহ একাধিক স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ত রয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসব সামরিক চুক্তি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নয়, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে। সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশে অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করেছে। এছাড়া পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসা-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
মরক্কো সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বি-টু-বি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিশেষ করে সার ও পাট খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চার ধরনের সামরিক চুক্তি করে থাকে। এর মধ্যে প্রথমটি জিসোমিয়া, যা সামরিক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় চুক্তি আকসা, যা মূলত অস্ত্র বিক্রয় ও সামরিক সরঞ্জাম সহায়তা নিয়ে। তৃতীয়টি ‘সিজমোয়া’, যা যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও সহায়তা বিনিময়ের জন্য করা হয়। আর চতুর্থ চুক্তি ‘বেকা’, যার মাধ্যমে মিসাইল ও ড্রোন শনাক্তকরণসহ স্পর্শকাতর তথ্য বিনিময় করা হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।







