জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো খুরশীদ আলমকে এবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক সময়ের বহুল বিতর্কিত ও পদচ্যুত এই শীর্ষ কর্মকর্তার আকস্মিক নিয়োগের দিনেই ব্যাংকের বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পর্ষদ সভা আহ্বান করা হলে সেখানে ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মুখে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানও পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। বিগত ছাত্র আন্দোলনে ব্যাপক সমালোচিত খুরশীদ আলমের এমন শীর্ষ পদে পুনর্বাসন এবং একই সাথে ব্যাংকের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা ব্যাংকিং খাতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র তারল্য সংকট ও অব্যবস্থাপনায় পড়া ইসলামী ব্যাংকের সূচকগুলোতে গত এক দশকে নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকের মুনাফা যেখানে প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা ছিল, তা ২০২৫ সালে মাত্র ১৩৭ কোটি টাকায় নেমে আসে এবং খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে বেড়ে প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে ব্যাংকটির ভেঙে পড়া আন্তর্জাতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। এক সময়ের শীর্ষ এই ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের মার্চে মাত্র ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জব্দ অবস্থায় রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত অধ্যায় পার করে আসা খুরশীদ আলম এই বিপুল খেলাপি ঋণ ও শেয়ার সংকটের মুখে থাকা ব্যাংকটিকে কতটা টেনে তুলতে পারবেন, তা নিয়ে আর্থিক খাতে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।







