ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে জোরপূর্বক ও নজিরবিহীন চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ মে) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যাংকটির এমডি ও চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান উভয়েই পদত্যাগ করায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমডিকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভাও বাতিল করা হয়।
ভুক্তভোগী এমডি ওমর ফারুক খাঁন জানান, বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের অব্যাহত চাপ ও হুমকির মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন। গত ১২ এপ্রিল এক পর্ষদ সভায় ওমর ফারুক খাঁনকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ৩-১ মে পর্যন্ত ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে থেকেই চেয়ারম্যান বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে থাকেন। সর্বশেষ ২৩ মে একাধিকবার ফোন করে পদত্যাগের জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং ২৪ মে’র মধ্যে পদত্যাগ না করলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার সকালে ওমর ফারুক খাঁন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাংকে আসার চেষ্টা করলে প্রথমে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ তাঁকে প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে চেয়ারম্যান ভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে অফিসের সুনির্দিষ্ট লোকজন পাঠিয়ে এমডির কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেন। এই বলপ্রয়োগের ঘটনাটি জানাজানি হলে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একদল কর্মকর্তা ও সাধারণ গ্রাহক তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন।
এদিকে এমডিকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ মতিঝিলে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংক পরিচালনায় অনৈতিক রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও জোরজুলুম বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন যে, এই ঘটনার পেছনে থাকা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পর্ষদ সভা হতে দেবেন না। গ্রাহকদের এই অনড় অবস্থানের মুখে বিকেলের দিকে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সাবেক এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খাঁনকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর পার হওয়ার আগেই তাঁকে এভাবে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পর ব্যাংকটি সচল রাখা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এই সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সুলতান উদ্দিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি।
