চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক আনসার সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে উপজেলার নাজিরহাট গরুর বাজারে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মফিজুল ইসলাম ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের পিসি (প্লাটুন কমান্ডার) হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নাজিরহাট গরুর বাজারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছিলেন আনসার সদস্য মফিজুল। ওই সময় এক মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার জন্য ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার একটি অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে রোগীর স্বজনদের পক্ষ নিয়ে রোসাংগিরি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মিলাত জেকি নাজিরহাট বাজারের ইজারাদারের অফিসে এসে সন্ধ্যায় ওই আনসার সদস্যের ওপর চড়াও হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে প্রকাশ্যে কলার ধরে কিল-ঘুষি মারা হয় এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারধর করতে উদ্যত হন অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে নাজিরহাট বাজারের ইজারাদার কমিটির লোকজনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়। তবে আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা রোগীর পথরোধের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাজারে উপস্থিত থাকা ব্যবসায়ী ও ইজারাদার মো. বাবুল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রোসাংগিরি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মিলাত জেকি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, গাড়িতে মুমূর্ষু রোগী থাকার পরও ওই আনসার সদস্য প্রথমে গাড়িটি ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন না এবং রোগীকে উদ্দেশ্য করে কটু কথা বলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং আনসার সদস্যকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেন।
এই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভুক্তভোগী আনসার সদস্য মফিজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ফটিকছড়ি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক হাছান আহমেদ জানান, কর্তব্যরত আনসার সদস্যের ওপর হামলার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এই বিষয়ে পরবর্তীতে কঠোর আইনি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
