গাজীপুরের টঙ্গীতে জাল চেকের মাধ্যমে একটি ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করার সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরীকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটে। আটক মাসুদ চৌধুরী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ‘এ আর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি টাকার একটি চেক জমা দিয়ে দ্রুত সেই ফান্ড ট্রান্সফার করার জন্য দায়িত্বরত ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর নানামুখী চাপ দিতে থাকে। এত বিপুল অঙ্কের টাকা তড়িঘড়ি করে স্থানান্তরের বিষয়টি ব্যাংকের ম্যানেজার (অপারেশন) বোরহান উদ্দিন আহমেদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করে।
সন্দেহ দানা বাঁধলে ব্যাংক কর্মকর্তা টাকার উৎস এবং চেকটির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে শুরু করেন। কিন্তু চক্রের সদস্যরা কোনো সঠিক উত্তর দিতে না পেরে আমতা আমতা করতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলাম চেকে উল্লেখিত মূল অ্যাকাউন্টধারী পল্টন শাখার গ্রাহক রাশেদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। মূল হিসাবধারী তখন স্পষ্ট জানান, তিনি কাউকে ৪ কোটি টাকার কোনো চেক দেননি এবং চেকে থাকা তাঁর স্বাক্ষরটি সম্পূর্ণ জাল করা হয়েছে।
জালিয়াতির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর শাখা ব্যবস্থাপক বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে চক্রের মূল সদস্য মাসুদ চৌধুরীকে কৌশলে ব্যাংকের ভেতরে আটকে রাখেন। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাংক থেকে মাসুদ চৌধুরীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে ঘটনার সময় তাঁর সাথে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তিনি যে একটি বড় ধরনের প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত, প্রাথমিক তদন্তে তার প্রমাণ মিলেছে। এই জঘন্য ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
