ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ পর্যন্ত তাদের অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী মোট ৩০টি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন হারিয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক উপপ্রধান জেনারেল ডেভিড ট্যাবর (David Tabor) সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেনারেল ট্যাবরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনীর এই ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধের আগে তাদের থাকা মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগের (২০ শতাংশ) সমান। হারিয়ে যাওয়া এই ৩০টি ড্রোনের সামগ্রিক আর্থিক মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি, যা মার্কিন সামরিক বাজেটের ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টানা ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন বিমান বাহিনীর ড্রোনের আক্রমণ ও নজরদারি সক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এই ৩০টি ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে কার্যকর ও ব্যবহারোপযোগী রিপার ড্রোনের সংখ্যা কমে মাত্র প্রায় ১৩৫টিতে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সংখ্যাটি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদদের গভীর চিন্তায় ফেলেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের আসল বিষয়টি হলো, অত্যাধুনিক এই ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনগুলো বর্তমানে আর নতুন করে উৎপাদন করা হচ্ছে না। উৎপাদন লাইন বন্ধ থাকায় যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া এই বিশাল ড্রোন বহর অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন করা বা শূন্যস্থান পূরণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।







