ইসরায়েলের অস্তিত্বের ‘শেষ পরিণতি’ অত্যন্ত ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পশ্চিমাদের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খামেনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন দেশ ও ভূখণ্ডগুলো আর কখনোই মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
সর্বোচ্চ নেতার মতে, আগ্রাসন চালানো বা নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় তো পাবেই না, উল্টো দিন দিন তারা তাদের আগের শক্ত অবস্থান থেকেও ছিটকে পড়ছে। মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে যে সমস্ত ভূরাজনৈতিক চাল চালছে, তা ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং এই অঞ্চলের মানুষ এখন যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ।
এদিকে এক যুগান্তকারী ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের মাটির ভেতরেই রাখার কঠোর আদেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হলো। খামেনির এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমাদের সাথে ইরানের পরমাণু চুক্তির আলোচনা এক নতুন মোড় নিল।
চলতি যুদ্ধের আগে এক কূটনৈতিক আলোচনায় ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, তারা তাদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক সদিচ্ছার প্রতীক হিসেবে অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার সামরিক হুমকি ও ইরানের ওপর অন্যায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে তেহরান তাদের আগের সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছে।
নতুন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরান এখন থেকে তাদের উৎপাদিত ও সমৃদ্ধ কোনো ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে অন্য কোথাও পাঠাবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পরমাণু সম্পদ দেশের ভেতরেই সর্বোচ্চ সুরক্ষায় রাখা হবে। মার্কিন বৈরী আচরণের ফলেই যে ইরান এই কঠোর ও অনমনীয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, তা দেশটির নীতি নির্ধারকদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।







