ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় দ্রুতগতির দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘাত ও তীব্র সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের কামারখোলা ব্রিজের ঢালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুর্ঘটনার পর চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার উত্তরা আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’-এর একটি বাস কামারখোলা ব্রিজের ঢালে এসে হঠাৎ গতি না কমিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘রাইদা পরিবহন’-এর আরেকটি বাসকে সজোরে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং বেশ কয়েকজন বাসের দুমড়েমুচড়ে যাওয়া জানালার পাশে আটকা পড়ে যান।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দুটি চৌকস ইউনিট অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কেটে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনেন এবং রক্তাক্ত আহতদের উদ্ধার করে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। আহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা নাহিদ হক মেহেদী (১৮) নামে এক তরুণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বাসের ভেতর আটকে পড়া সবাইকে নিরাপদে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনার সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
