রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ পুকুরপাড় এলাকায় ঘর ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর এক বৃদ্ধা নারীকে ‘বালিশ চাপা’ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনায় অভিযুক্ত পল্লবী থানা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল এবং সদস্য সচিব মো. রিয়াজকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।
সোমবার (২৫ মে) ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াজকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পল্লবী থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক কমিটিও সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের অপরাধের দায় দল বহন করবে না। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যুবদল নেতৃত্ব। পাশাপাশি দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত এই দুই নেতার সাথে যাবতীয় সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পল্লবীর বাউনিয়াবাদ বেরিবাঁধ বস্তিতে মোছা. পাখির মালিকানাধীন একটি ঘর ও জমি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াজ। গত ২২ মে রাতে দলবল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা পাখির ঘরে আকস্মিক হামলা চালায় এবং তাকে নির্মমভাবে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তীতে একই রাতে দ্বিতীয় দফায় হানা দিয়ে পাখির বৃদ্ধা মাকে ‘বালিশ চাপা’ দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
হামলার সময় ওই এলাকায় ব্যাপক লুটপাট ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত থাকলেও অভিযুক্তরা সেই ফুটেজ মুছে ফেলতে এবং তা প্রকাশ করলে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষী যুবদল নেতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
