নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের সরকারি ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। দুই সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া ৮ ও ১২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটির অন্তত ২৯টি স্পটে কোরবানির পশুর বর্জ্য, উচ্ছিষ্ট অংশ এবং রক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। বহু স্থানে এসব বর্জ্য পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদের পরদিন আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দুই সিটির অন্তত ২৯টি জায়গায় বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১টি এলাকায় পশুর উচ্ছিষ্ট, মাংস কাটার চাটাই এবং খড়-ভুসি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোনো কোনো স্থানে বর্জ্য সংগ্রহ করে রাস্তার ওপর স্তূপ করে রাখা হলেও তা এখনো আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়নি।
উত্তর সিটির মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের সাংবাদিক আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তা, সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এবং বেগম রোকেয়া সরণির পূর্ব মণিপুর এলাকায় বর্জ্যের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। এমনকি গুলশানের ৫১, ৫৪, ৯৪ ও ১০৪ নম্বর সড়ক এবং বনানীর মতো অভিজাত এলাকার কিছু সড়কেও আজ সকাল পর্যন্ত কোরবানির উচ্ছিষ্ট অংশ ও রক্ত জমে পচতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ধানমন্ডি পপুলার মেডিকেল কলেজের পাশের সড়ক, জিগাতলা হক ম্যানশনের সামনে, হাজারীবাগের মনেশ্বর রোড, গণকটুলী সিটি কলোনি, চকবাজারের নূর ফাতাহ লেন এবং নাজিরাবাজারের কাজী আলাউদ্দীন রোডের প্রায় অর্ধেকটা জায়গা জুড়ে সকাল পর্যন্ত বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক এলাকায় পশুর লেজ, খুর, চামড়ার অংশ, শিং ও ভুড়ির বর্জ্য যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে।
অথচ ঈদের দিন বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম দাবি করেছিলেন, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আজ সকালে যেসব এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ পাওয়া গেছে, সেগুলো দক্ষিণ সিটির ১৪, ২২, ২৭, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ, কর্মকর্তাদের কাগজে-কলমে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত দাবির সাথে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।







