বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের তরুণীরাই বর্তমানে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পথ দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ক্রেডিট এগ্রিকোল ফেডারেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
‘গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকোল ফাউন্ডেশন’ এই বিশেষ সংলাপের আয়োজন করে। ক্রেডিট এগ্রিকোল গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ভেরোনিক ফোজোরের অত্যন্ত চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে ফ্রান্সের নারী-পুরুষের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী লড়াই বিষয়ক ফরাসি মন্ত্রী অরোরে বের্জেও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এই বৈশ্বিক ফোরামে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং লিঙ্গ সমতাখাতে কর্মরত বিশ্বের প্রায় ১৫০ জন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে অংশ নিয়ে ফরাসি মন্ত্রী অরোরে বের্জে বলেন, বর্তমানে ফ্রান্সে এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক অসমতা বেশ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এটি মানবজাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তাই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে তরুণদের, বিশেষ করে নারীদের সার্বিক ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলোচনা চলাকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঐতিহাসিক গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ ও নারী উন্নয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত নেতৃত্বে সংঘটিত ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং এর থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক শিক্ষাগুলো বিশ্বমঞ্চে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বাংলাদেশে চলমান সংস্কার ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের তরুণীরাই অগ্রভাগ থেকে পথ দেখাচ্ছে। আধুনিক নতুন প্রযুক্তিতে ক্ষমতায়িত এই তরুণ-তরুণীরা আগামী দিনে নিজেদের মেধার জোরে বিপুল সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে বলেও তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসবে যখন তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় শক্তির কারণে তরুণ প্রজন্ম সমাজে আরও বেশি শক্তিশালী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। বাংলাদেশে এই পরিবর্তনের হাওয়া আরও দ্রুত গতিতে ঘটবে, কারণ বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়সই ৩৫ বছরের নিচে, যা দেশের জন্য এক মস্ত বড় শক্তি।
