ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সার্বিক ও প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক এবং পূর্ব নোটিশহীন মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদ্যমান গভীর অনিয়ম, চাঁদাবাজি, বাজার সিন্ডিকেট, মাদকের মরণব্যাধি ব্যবসা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বাস্তব চিত্র নিজ চোখে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ছদ্মবেশে মাঠপর্যায়ে যাওয়ার সবিনয় আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে সারজিস আলম এই বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের প্রকৃত অবস্থা কেমন, তা সরেজমিনে যাচাই করতে প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা প্রটোকল ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার চিত্র সরাসরি সামনে এলে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সারজিস আলম তাঁর পোস্টে লেখেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির জন্য আসলে শুধু কয়েকজন ব্যক্তি এককভাবে দায়ী নয়, বরং এর পেছনে একটি বৃহত্তর ত্রুটিপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দায়ী। প্রকৃতপক্ষে যে সামষ্টিক সিস্টেম বা ব্যবস্থা এটার জন্য দায়ী, তাদের সবাই হয়তো এই মুহূর্তে শাস্তির আওতায় আসেনি, তারপরও সমস্যার বাস্তব অবস্থা জানতে দেশের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে সরাসরি মাঠে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এজন্য জনাব তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এনসিপির এই প্রভাবশালী নেতা মনে করেন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ জনগণের নাগরিক সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নয়নে শীর্ষ পর্যায়ের এমন আকস্মিক ও গোপন পরিদর্শন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রাত্যহিক জীবনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলা আরও কিছু সুদূরপ্রসারী ও জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকেও সরকারের কঠোর নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে সারজিস আলম আরও যোগ করেন, ঠিক একই কায়দায় সমাজে জেঁকে বসা অবৈধ চাঁদাবাজি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট, মাদকের ভয়াবহ কারবার এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের যে বিশাল প্রজেক্ট বা বলয় চারদিকে গড়ে উঠেছে, সেগুলোতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ছদ্মবেশে ঘুরে বাস্তব অভিজ্ঞতা গ্রহণের সবিনয় আহ্বান জানাচ্ছি। সমাজ থেকে এই গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মগুলো শক্ত হাতে দূর করতে পারলে দেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পাবে বলে তিনি মনে করেন।







