জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক সরকারের সুবিধাভাবী ও গণহত্যার সমর্থনকারী হিসেবে পরিচিত অভিনেতা তমাল মাহবুবের বিরুদ্ধে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তমাল মাহবুব লিখেছেন, “মাবরুর রশিদ বান্নাহ… নামটা আমাদের মনে আর মগজে গাইথা আছে… সময় মতো হিসাব নিকাশ ক্লিয়ার হবে..!!!!” এই উসকানিমূলক পোস্টের পর সংশ্লিষ্ট কমেন্ট বক্সে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছেলে আরশাদ আদনান সরাসরি সেই হুমকিদাতাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর জুলাই বিপ্লবের পক্ষের সাধারণ নাগরিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকদের দাবি, রাষ্ট্রপতির ছেলে আরশাদ আদনান এখনো এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স)-এর মতো রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ প্রটোকলে বহাল থেকে অভ্যুত্থানকারী চলচ্চিত্র ও নাট্যকর্মীদের একটি সুনির্দিষ্ট ‘লিস্ট’ বা তালিকা তৈরি করছেন এবং জনসমক্ষে সেটির ঘোষণা দিচ্ছেন। এই ঘটনাকে অন্তর্বর্তীকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিক্ষুব্ধ নাগরিক ও জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিরা মনে করছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন ঘটলেও প্রশাসনের শীর্ষ পদে এবং খোদ রাষ্ট্রপতির পরিবারে সাবেক ফ্যাসিস্টদের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রপতির সন্তান রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রটোকল ব্যবহার করে এখনো সাবেক শাসকদলের পক্ষে জনমত গঠন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং স্বাধীন মতপ্রকাশকারী প্রগতিশীল সংস্কৃতিকর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্পর্শকাতর ঘটনার পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার দিকে আঙুল তুলছেন আন্দোলনকারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলছেন, জুলাইয়ের শহীদ ও বিপ্লবীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী কেন এখনো সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদে বহাল রেখেছেন। একই সাথে, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিদের ওপর প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া এই ফ্যাসিস্ট সন্তানকে কেন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিপ্লবের স্বপক্ষের ছাত্র-জনতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সাথে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ব্যবহার করে চলচ্চিত্র কর্মীদের তালিকা প্রস্তুতকারী রাষ্ট্রপতির ছেলে আরশাদ আদনান এবং মূল হুমকিদাতা তমাল মাহবুবের বিরুদ্ধে যেন অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিদের ওপর এমন প্রাতিষ্ঠানিক হুমকি অব্যাহত থাকলে তা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং বিপ্লবের চেতনাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।







